উপজেলা বিএনপির আহবায়কের হুমকিতে অধ্যক্ষ হাসপাতালে

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৯ পিএম
--09-09-2024-66def378de224.jpeg)
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যক্ষ শামসুন নাহার সিমা
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোশাররফ হোসেনের হুমকিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাগাতিপাড়া বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুন নাহার সিমা।
সোমবার সকালে ওই অধ্যক্ষ তার কলেজে অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অধ্যক্ষ শামসুন নাহার সিমা জানান, গত কয়েক দিন থেকেই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোশাররফ হোসেন তাকে ফোন করছেন এবং তার কলেজের পরিচালনা কমিটিতে তার দেওয়া ব্যক্তিদের নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং তার সাথে দেখা করার জন্যও নির্দেশ দিয়ে আসছিলেন।
রোববার উপজেলার মালঞ্চি বাজার রেলগেট এলাকায় মোশাররফ হোসেনের অফিসে ওই অধ্যক্ষকে ডেকে পাঠান। একই দিন দুপুরে অধ্যক্ষ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোশাররফ হোসেনের দলীয় অফিসে গেলে তিনি কড়া ভাষায় অধ্যক্ষকে তার প্রতিষ্ঠানের ইতোপূর্বের সব হিসাব-নিকাশ দাখিল করতে বলেন। তার লোক জনৈক রেজাউলকে প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটিতে রাখার জন্য নির্দেশ দেন। আর পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় তার সঙ্গে আলোচনা করে তার মনোনীত লোক দিয়ে কমিটি করার নির্দেশ দেন। এতে ওই অধ্যক্ষ ভীত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম জানান, ওই অধ্যক্ষকে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা প্রাথমিকভাবে তার ইসিজি করলে তার রিপোর্ট খারাপ আসে। তবুও প্রাথমিকভাবে আমরা এখানে তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। অবস্থার উন্নতি না হলে আজই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরাও জানান, মোশাররফ হোসেন তাদেরও ফোন করে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে তার লোক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
সাংবাদিকরা এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোশাররফ হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করলেও ওই অধ্যক্ষ তার অফিসে গিয়েছিলেন বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে সেই সময় তার সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।