বৈরী পরিস্থিতিতেও সচল ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা
ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৪, ০৩:২৭ পিএম
ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে গোমতী নদী ও সালদা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে কুমিল্লার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানি ঢুকছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। তলিয়ে গেছে নার্স ও ডক্টরস কোয়ার্টারের প্রথম তলা। এমন বৈরী পরিস্থিতিতেও উপজেলার বানভাসি মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গল ও বুধবার সকালের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতাল কমপ্লেক্সে থইথই করছে বন্যার পানি। পানিবন্দি থেকেও সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ও হাসপাতাল চত্বরে পানি বেশি থাকায় সেবা নিতে আসা রোগীদের হাসপাতালে আসতে কষ্ট হচ্ছে। এতে হাসপাতালের সেবাগ্রহীতাদের ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুর্ভোগ বেড়েছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে সেবা প্রদান ও গ্রহণে অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে।
উপজেলার গোপাল নগর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন নাজমা আক্তার ও নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। বন্যায় উপজেলার প্রায় সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেও বন্যার পানি প্রবেশ করায় বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানি আরও বেড়ে গিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে যাবে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির হোসেন চৌধুরী ও অপু খান চৌধুরী বলেন, অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা একটি জরুরি বিষয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও যদি পুরোপুরি প্লাবিত হয় তাহলে রোগীদেরকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। অন্যদিকে উপজেলার অধিকাংশ সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে বিকল্প পথও অবশিষ্ট নেই।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হাসনাত মো. মহিউদ্দিন মুবিন যুগান্তরকে বলেন, বন্যার পানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও প্রবেশ করতে শুরু করেছে। হাসপাতাল চত্বরে পানি থইথই করছে। আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। তারপরও আমরা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।