চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন নিত্যপণ্যের বাজার
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪৬ পিএম
চট্টগ্রামে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও আলুর দাম লাগামহীন। সরকার নির্ধারিত দাম পাত্তাই দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এসব পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার ৩৬ দিন পরও বাস্তবায়ন হয়নি। কোথাও এ দামে বিক্রি হচ্ছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডিম, আলু, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম। বরং উলটো দাম বেড়েছে। এ বাড়তি দামের তালিকায় আছে সব ধরনের সবজিও। কেজিপ্রতি ৮০ টাকার কমে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছে না বাজারে। বাড়তি দামে এসব পণ্য কিনতে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে।
বিক্রেতারা বলছেন, উৎপাদন খরচ বাড়ায় কৃষক পর্যায়েই দাম বেশি। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। সরবরাহ সংকটেও বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম।
গত মাসের মাঝামাঝি পেঁয়াজ, আলু ও ডিম-এই তিন পণ্যের দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, প্রতিকেজি আলুর কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে দাম হবে ২৬ থেকে ২৭ টাকা এবং খুচরা মূল্য হবে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজের পাইকারি দাম হবে ৫৩ থেকে ৫৪ টাকা এবং খুচরা দাম হবে ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা। এছাড়া প্রতিটি ডিমের উৎপাদন পর্যায়ে দাম হবে সাড়ে ১০ টাকা এবং খুচরা দাম হবে ১২ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত থেকে আমদানি করা প্রতিকেজি ভালোমানের পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৪৫ টাকার কিছু বেশি। অন্যান্য খরচসহ আরও দুই টাকা। ফলে আমদানি করা ভালোমানের পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দাম পড়ছে ৪৭ টাকার মতো। কিন্তু আড়তদাররা পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন ৭০ টাকার বেশি দামে। আর নিুমানের ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি খরচ ৪০ টাকার কমে। আমদানিকারকরা বিক্রি করছেন ৬৫ টাকার বেশি দামে। বাজারে প্রতিকেজি ভালোমানের ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৭৩ থেকে ৭৫ টাকা। বাজারে খুচরায় তা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকার বেশি দামে। তবে কিছু নিুমানের পেঁয়াজ সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে। এছাড়া সিন্ডিকেটের প্রভাবে ও বাজার তদারকির অভাবে দাম বেড়েছে আদা ও রসুনসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের।
বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫২ টাকা। ডিমও সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না। প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০-১৫২ টাকা, সাদা ডিম ডজনপ্রতি ১৪৮ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা।
বাজারদর : বাজারে শীতকালীন সবজি থাকলেও দাম আকাশচুম্বী। নগরীর একাধিক কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি আলু ৫২ টাকা, বেগুন ৮০, পটোল ৬০, করলা ৮০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, ঝিঙে ৬০, পেঁপে ৪০, ধুন্দল ৬০, বাঁধাকপি ৬০, ফুলকপি ১২০, মরিচ ১৮০, বরবটি ১০০, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় খুচরা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ আকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়, কক মুরগি ২৮৮-৩০০, দেশি মুরগি ৫৫০, গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ও বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০৫০-১৭০০ টাকা কেজি, রুই ৬০০, কাতল ৬০০, কালিবাউশ ৪৫০, চিংড়ি ৮০০-১০০০, কাচকি ৫০০, কই ৪০০, পাবদা ৪৫০, শিং মাছ ৪৫০-৬০০ টাকায়।