
‘মামা-ভাগনে যেখানে, আপদ নেই সেখানে’। এই প্রবাদ বাক্যটি যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। একই চেয়ার নিজ দখলে নিতে ভোটযুদ্ধে মামা-ভাগনে। এ নিয়ে ওই ইউনিয়নবাসীর ভোটারদের মধ্যে নানা কৌতূহল দেখা দিয়েছে। কে বসবেন চেয়ারম্যানের চেয়ারে? মামা নাকি ভাগনা নাকি অন্য কোনো প্রার্থী।
উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থী সাইফুল ইসলামের বোনের ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা মার্কা প্রতীকের প্রার্থী মো. রুকুনুজ্জামান চৌধুরী। আগামী ১৬ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে সাইফুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে। অপরদিকে একই পদে ভাগনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চশমা মার্কা নিয়ে মামাকে হারাতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন রুকুনুজ্জামানা। এ অবস্থায় কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।
ঘিলাছড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম প্রথমবারের মতো নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের মন জয় করতে গণসংযোগ ও প্রচারণায় মাঠে ছিলেন সাইফুল। সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের আস্থাভাজন সাইফুল ইসলাম এলাকায় বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিতে ভোটারদের কাছে ‘নৌকা’ মার্কায় ভোট চাচ্ছেন তিনি।
এদিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রুকুনুজ্জামান চৌধুরী উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের পাশে থেকে মানবকল্যাণে কাজ করছেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে তিনি জড়িত। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হতদরিদ্র মানুষকে সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন রুকুনুজ্জামান। তিনি জামায়াতের সমর্থন নিয়ে এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন বলে নির্বাচনী মাঠে গুঞ্জন রয়েছে।
সাইফুল ইসলামের আপন বোনের ছেলে রুকুনুজ্জামান। মামা ভাগনেকে ও ভাগনে মামাকে এই নির্বাচনে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। প্রেস্টিজের এই লড়াইয়ে উভয়ের মধ্যে মামা ও ভাগিনা সম্পর্কটা যেন আপাতত আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মামা-ভাগিনার জনপ্রিয়তা সমানে সমান হলেও অপর প্রার্থীরাও বসে নেই। নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও পাঁচজন প্রার্থী।