অপহৃতকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:৪৫ পিএম
-67c1779eafcaf.jpg)
রাজধানীর মাতুয়াইল থেকে অপহরণ হওয়া রেজাউল হক (৩৬) নামে এক মাছের খামারিকে উদ্ধার করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন মো. জুয়েল নামে এক পুলিশ কনস্টেবল। এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন রিফাত ও রিপন ঢালী নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সারুলিয়ার ওয়াসা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের কাছ থেকে রামদাসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র ও দুটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অপহৃত রেজাউল বাদী হয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা ও এএসআই আশরাফুজ্জামান বাদী হয়ে ১২ নাম উল্লেখ করে ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- রুদ্র বাহিনীর প্রধান রুদ্র (২৫), জাকির (৩৫), রাকিব (৩০), রানা (৩৮), সুজাত (২৮), সোহেল ওরফে কালা সোহেল (২৭), ইমন (২২) ও রোহান (২১)। আর কয়েকজনের নাম জানা যায়নি।
ভুক্তভোগী রেজাউল হক বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত করিম জুট মিলের মাছের খামার পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রুদ্র বাহিনী তাকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাকে ও তার দুই কর্মচারীকে বেধড়ক মারধর করে। এতে ভয় পেয়ে বিকাশ ও নগদ অর্থসহ মোট ৬০ হাজার টাকা সন্ত্রাসীদের দেয় রেজাউল।
এদিকে রেজাউলের অন্য কর্মচারী টিপু সুলতানকে অপহরণের খবরে ৯৯৯ কল দেওয়া হয়।
ডেমরা থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, ৯৯৯ নাম্বারের খবর পেয়ে অপহৃত রেজাউলকে উদ্ধার করতে যায় পুলিশ। পুলিশ আসার খবরে উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় রুদ্র বাহিনী। রিংয়ের শেকল দিয়ে জুয়েলের মাথায় আঘাত করে তারা। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
ওসি বলেন, এই রুদ্র বাহিনীর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তাদের নামে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অপহরণ ও কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত সময়ে বাকি আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।