
প্রিন্ট: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৩৮ এএম

বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ০৬:১১ পিএম

আরও পড়ুন
স্থানীয় বাজারের প্রক্রিয়াজাত করা মুরগির মাংসে মিলেছে টাইফয়েড (স্যালমোনেলা) ও ডায়রিয়ার (ইকোলাই) জীবাণু। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক পরিচালিত ওই গবেষণায় এ ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।
এছাড়া দোকানে মুরগি অসুস্থ হলে বেশিরভাগ দোকান মালিক (৯৬.১৫ শতাংশ) মুরগি আলাদা রাখা বা মেরে ফেলার পরিবর্তে বিক্রি করে দেন বলে ওই গবেষণায় উঠে আসে।
ময়মনসিংহ সদর ও এর আশপাশের পোল্ট্রি বাজারগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ, বায়োসিকিউরিটি এবং পোলট্রি জবাইকরণ সম্পর্কে বিক্রেতাদের মনোভাব যাচাইকরণ এবং সেখানে বিক্রয় করা মাংসের গুণগতমাণ যাচাইয়ের জন্য বাকৃবির পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেনের নেতৃত্বে ওই গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়।
গবেষণায় ময়মনসিংহ সদরের চরপাড়া বাজার, মিন্টু কলেজ বাজার, মেছুয়া বাজার, নতুনবাজার, সানকিপাড়া বাজার, কেওয়াটখালী বাজার, শেষমোড় বাজার, সুতিয়াখালী বাজার, ভাবখালী বাজার, কে আর মার্কেট, শম্ভুগঞ্জ বাজার এবং গাছতলাসহ ১২টি স্থানীয় বাজারের পোলট্রি দোকানের তথ্য নেওয়া হয়।
একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নাবলীর তালিকা অনুসরণ করে এই ১২টি বাজারের ২৪টি পোলট্রি দোকানের কর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
এসব বাজারে সাধারণভাবে জবাই এবং প্রসেসিং ইউনিটের পদ্ধতি অনুসরণ করে পোলট্রি ফার্মে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জবাইকৃত মোট ২৬টি মাংসের (উরু এবং বুকের মাংস) নমুনা এবং ২টি পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
এরপর নমুনাগুলো বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষা করে দেখা গেছে, স্থানীয় বাজারের মাংসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্ষতিকর ইকোলাই ও সালমোনেলার উপস্থিতি রয়েছে। যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় মাংসে এগুলো থাকার কথা না।
স্থানীয় বাজারের মুরগির দোকানগুলোর অবস্থা সম্পর্কে গবেষক অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- ৮৪.৬২ শতাংশ দোকানে মুরগি রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই, ৯২ শতাংশ দোকানে ময়লা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই এবং ৪৬.১৫ শতাংশ দোকানে পর্যাপ্ত আলো ছিল না। এছাড়াও ৩০.৭৭ শতাংশ দোকানে মাংস কাটার জায়গা অস্বাস্থ্যকর ছিল এবং পরিকল্পিত বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল না। এরকম পরিস্থিতি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি এবং দূষণের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে।
স্বাস্থ্যকর মাংস প্রাপ্তির বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারগুলোর অধিকাংশ পোলট্রি দোকানে অপর্যাপ্ত জায়গায় পাখিগুলোকে রাখা হয় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি জবাই করা হয়, যা অত্যন্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিসম্পন্ন এবং নানা রোগ বিস্তারের কারণ হতে পারে। এর সমাধানে স্থানীয় বাজারগুলোতে ক্ষুদ্র প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
উল্লেখ্য, প্রসেসিং ইউনিটের মাংসে কোনো সালমোনেলা বা ইকোলাই শনাক্ত করা যায়নি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে প্রসেসিং ইউনিট থেকে পাওয়া মাংস খাওয়ার জন্য নিরাপদ। বাংলাদেশেও বড় বড় কোম্পানিগুলো প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংস উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারগুলোতে ক্ষুদ্র প্রসেসিং ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা একইসঙ্গে যেমন নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি স্থানীয় পোলট্রি দোকানগুলো লাভবান হবে।