
প্রিন্ট: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৪১ এএম
৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ইফতার করাল চবি ছাত্রশিবির

চবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৫, ০৭:২৮ পিএম

রমজানের প্রথম ২০ দিনে প্রায় ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ইফতার করিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রশিবির।
গত মাসে রমজানের প্রথম ২০ দিন গণইফতার কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
চবি ছাত্রশিবিরের দাওয়াহ সংগঠন ‘মিনার’র ব্যানারে এটি আয়োজিত হয়। ছাত্রদের জন্য চবির কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলগুলোতে প্রতিদিন এ আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
গণইফতার কর্মসূচিতে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চবি শিবিরের নেতারা। প্রতিদিন প্রায় ১৫০০-১৮০০ ছাত্র এবং ৫০০-৬০০ জন ছাত্রী এতে অংশ নেন। ইফতার ব্যবস্থাপনায় প্রায় ১২০-১৫০ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছেন বলেও জানান তারা।
শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম, সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক স্কলার ড. মুসা বিন সালমান খিবরানী, জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরীসহ চবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা এ কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনের ব্যাপারে চবি শিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী যুগান্তরকে বলেন, আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাবেক নেতাদের সহযোগিতায় আমরা প্রাথমিকভাবে আয়োজন শুরু করি। পরে আমাদের আয়োজন দেখে অনেকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গণইফতার কর্মসূচিতে কয়েকটি উপকমিটি কাজ করেছে। কেউ দারসুল কুরআনের দাওয়াত দিয়েছে, কেউ খাবার প্রস্তুত করেছে, আবার কেউ সেগুলো সুষ্ঠুভাবে বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন। ছোট ছোট ছেলেরাও আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, মাহে রমজান উপলক্ষে আমাদের ২০ দিনব্যাপী দারসুল কুরআন ও গণইফতার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন দারসুল কুরআনের মাধ্যমে আমরা কুরআনের গভীর শিক্ষা ও তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি, যাতে তারা নিজেদের জীবনকে কুরআনের আলোকে পরিচালিত করতে পারে। পাশাপাশি গণইফতার আয়োজনের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে চেয়েছি।
প্রতিদিনের ইফতার আয়োজনে খেজুর, ফল, শরবত, ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পিয়াজু, মিষ্টান্ন ও বিরিয়ানির ব্যবস্থা করা হয়। গণইফতার কর্মসূচি শেষ হলেও আর্থিক সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করলে তাদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হলে বলে জানান শিবির নেতারা।