
প্রিন্ট: ২৮ মার্চ ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ১০:৪৯ পিএম

ছবি: যুগান্তর
আরও পড়ুন
ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।
তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক
দল নয়। এটি একটি ফ্যাসিস্ট, সন্ত্রাসী সংগঠন। তাই আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে
হবে।
এদিকে জুলাই শহিদ মো. শাহাদাত হোসেন শাওনের
বাবা বাছির আলম বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যাকারীদের
বিচার ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এছাড়া নির্বাচন করার চেষ্টা হলে শহিদ পরিবার
ও ছাত্র সমাজ বাধা দেব।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
রাজু ভাস্কর্যে আওয়ামী লীগ ও মিত্র দলগুলো নিষিদ্ধের দাবিতে ৩৬দিন ধরে চলা গণঅবস্থান
কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশে তারা এ কথা বলেন।
বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন,
গত ৩৬দিন ধরে রাজু ভাস্কর্যে যে দাবিতে ছাত্রজনতা গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তা
অত্যন্ত যৌক্তিক। কারণ আওয়ামী লীগ বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা ঘটিয়েছে।
তারা ১৬২ জনকে হত্যা করেছে যাদের ব্য়স ১৮ বছরের কম তথা শিশু। কাজেই এ দলকে আর রাজনৈতিক
দল বলা যায় না। তারা ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী সংগঠন। তাই ইতালিতে যেমন ফ্যাসিস্টদের ও জার্মানিতে
নাৎসিদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল তেমনি আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।
সমাবেশে ৯০ এ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকালীন
ছাত্রলীগের সভাপতি ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নেতা হাবিবুর রহমান সে সময়ে গণঅভ্যুত্থানের
পর স্বৈরাচারী এরশাদের দল জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে বাধা না দেওয়ার ভুলের কথা তুলে
ধরেন।
তিনি বলেন, আমি, আমানুল্লাহ আমান, নাজিমুদ্দিন
আলম বা অন্য কেউ যদি ভুল না করে শুধু বলতাম তাহলেই কিন্তু জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ হয়ে
যেত। কাজেই এখন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে ভুল করা যাবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বলেন, শুধু
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করলে হবে না। তাদের মিত্র ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টির দুই গ্রুপকেও
নিষিদ্ধ করতে হবে।
শহিদ মো. শাহাদাত হোসেন শাওনের বাবা মো.
বাছির আলম বলেন, আমার বাসা রাজধানীর পশ্চিম ধোলাইপাড়। ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে
আমার ছেলে শাহাদাত হোসেন শাওন শহিদ হয়। আজ পর্যন্ত আমার ছেলের একজন খুনীও গ্রেফতার
হয়নি। আমার ছেলের খুনী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়নি।
শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে বিচার
করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বিচার ছাড়া, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ছাড়া দেশে শান্তি
আসবে না। আমাদের ছেলেদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা ক্ষমতায় আসতে চায় তাদের বলতে চাই,
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না করে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচন করতে হলে আওয়ামী লীগ ও সঙ্গে
থাকা সব দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে। পাড়া মহল্লায়
যেসব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে।
সমাবেশে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন গণঅবস্থানের
সংগঠক বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দুই নেতা মো. ওমর ফারুক ও আবু সাঈদের
নেতৃত্বে অনশনের মধ্য দিয়ে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে এতে জাতীয় বিপ্লবী
পরিষদ ও বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরাসহ ছাত্রজনতা যোগ দেয়।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে
ছাত্রজনতার এ অবস্থান কর্মসূচি দেশের রাজিনীতিতে এক বিরল ঘটনা। কর্মসূচির প্রথম ১৮
দিন দিনরাত ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করে, প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার
ভিডিও প্রদর্শনী করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট মন্ত্রী-এমপিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং
গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তবে দুঃখনজক হলেও
সত্য সরকার কোনোরূপ সাড়া দেয়নি। এরপর পবিত্র রোজার জন্য রাতের বেলা অবস্থান সীমিত করে
দিনের বেলা অবস্থান করাসহ প্রতিদিন গণইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।
বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব বলেন,
ফ্যাসিবাদ নিষিদ্ধ করার দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। গণঅবস্থানের অভিজ্ঞতাকে
সামনে রেখে এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ফ্যাসিস্টদের নিয়ে যেমন আমাদের কোনো
বিভ্রান্তি নাই, তেমনি ফ্যাসিস্টদের দমনের বিষয়েও আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিধা-সংকোচ নাই।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শহিদ শাওনের মা
শামসুন্নাহার, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের রাজনৈতিক
প্রধান আনিছুর রহমান, সাংগঠনিক প্রধান মো. শফিউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব,
সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার ও গালীব ইহসান,
কেন্দ্রীয় সদস্য ওয়াসিম আহমদ; বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সদস্য সচিব
ফজলুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম ও হামিম
হোসাইন শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লাহ ও নিয়াজ
আহমদ এবং বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।