সংস্কারের নামে জাতীয় নির্বাচন বিলম্ব করবেন না: সরকারকে বিএনপি নেতা

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩১ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, সংস্কারের নামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্ব করবেন না। এটা বুঝতে যদি আপনার দেরি হয়, তাহলে আপনার প্রতি জনগণের আস্থা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কর্মজীবী দল আয়োজিত ‘রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দরকার আগে নির্বাচন। দরকার সংস্কার, অস্বীকার করি না। যে সংস্কারের মধ্যদিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানের ‘সুষ্ঠু নির্বাচন- মৃত ব্যক্তির ভোট নয়, দিনের ভোট দিনে’- এমন উক্তিকে সফল করতে পারবেন। যেটুকু দরকার ততটুকু সংস্কার করেন, একটা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দেন। বিলম্ব নয়, এতে ক্ষতি। অবিশ্বাস আর অবহেলায় কিন্তু ভালোবাসা থাকে না। আমাদেরকে যদি অবিশ্বাস করেন, ক্ষতি জনগণের হবে। বিএনপির ক্ষতি এরশাদ করতে পারে নাই, হাসিনা করতে পারে নাই, ইনশাআল্লাহ কেউ করতে পারবে না।
সাবেক চিফ হুইপ বলেন, ড. ইউনূস (প্রধান উপদেষ্টা) আপনি পৃথিবীর সম্মানীয় ব্যক্তি। আমাদের সম্মান বৃদ্ধি করেছেন, আপনাকে কখনো অপদস্ত করতে দেব না। কারণ, আপনি যদি সত্যিকার অর্থে আমাদের কথা, জনগণের কথা বুঝে থাকেন অনুগ্রহ করে, সংস্কার চলুক। কিন্তু সংস্কারের নামে বিলম্ব করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্ব করবেন না। এটা বুঝতে যদি আপনার দেরি হয়, তাহলে আপনার প্রতি জনগণের আস্থা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে যুবদল, ছাত্রদল, বিএনপির কোনো কর্মী আওয়ামী লীগের যারা অত্যাচার করেছে, তাদের ওপর হাত উঠায়নি।
বড় শয়তান এখনো ধরা হয় নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কান কথা নয়, আবোলতাবোল কথা নয়; ডেভিল হান্ট করছেন বড় শয়তান এখনো ধরা হয় নাই। যারা বড় শয়তান, ২০১৪ সালে যদি এই বড় শয়তানের নির্বাচনে কেউ কেউ অংশগ্রহণ না করতেন, শেখ হাসিনা সেদিনই বিদায় নিত।
হাসিনার উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০১৮-তে আমরা নির্বাচনে গিয়েছিলাম, চা-বিস্কুট খেয়ে আপনাকে বিশ্বাস করেছিলাম। সেই বিশ্বাসের ঘরে আগুন দিয়েছেন। দিনের ভোট রাতে করে আমাদের বেইজ্জতি করেছেন। আল্লাহ তো আছেন, সেই বেইজ্জত আপনিও হচ্ছেন। চুরি করে পালিয়ে গেছেন হেলিকপ্টারে করে। যদি সৎ সাহস থাকত, আপনি আইনের কাছে যেতেন, আপনার বিচার হতো। আপনি যদি আমার নির্দোষ নেত্রীকে বিনা বিচারে ৫ বছর জেলে রাখতে পারেন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে জনগণের সরকার হবে, সেই সরকার আপনাকে কত হাজার বছর জেল দিবে সেটা আমরা দেখতে চাই।
বাংলাদেশ কর্মজীবী দলের সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুর রহমান কিরন প্রমুখ।