
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩০ এএম

রাকিব রাইহান
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৩, ০২:২২ পিএম

মাধ্যমিকে আমার এক ক্লাসমেট ছিল। নাম পুষ্প। ভয়ংকর সুন্দরী! চোখ ঝলসানো সুন্দরী বলতে বোধহয় এমন রূপই বোঝায়। তার দিকে তাকালে জগৎ সংসার তুচ্ছ মনে হয়, বুকের ভেতরে হাহাকার জাগে। এমন রূপের বর্ণনা দিতে গিয়েই বোধহয় কবিগুরু লিখেছিলেন-মুখের পানে চাহিনু অনিমেষে, বাজিল বুকে সুখের মত ব্যথা।
কৈশোরের শুরুতে আমি তার প্রেমে পড়লাম। মনে মনে প্রেম। তখন ক্লাস এইটে পড়ি। তাকে বলার দুঃসাহস আমার কখনোই হবে না, জানতাম। সে ক্লাসের তুখোড় ছাত্রী, আমাকে মোটামুটি ব্যাকবেঞ্চারই বলা যায়। তার ওপর আমার নিজের চেহারার যা ছিরি! প্রেমের প্রস্তাব দিলে আমাকে জুতাপেটা করবে সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। তার সুন্দর জুতা দিয়ে পেটাবে এমনটাও আশা করা নেহাত বোকামি। স্কুলের দপ্তরির ছেঁড়া জুতা ভাড়া করে এনে পেটাবে!
যাইহোক, কৈশোরের প্রেমে আমি পুরোপুরি ডুবে গেলাম। সে বসে সামনের বেঞ্চে, সুতরাং আমিও স্যারদের পড়া ধরার ভয় তুচ্ছ করে সামনের বেঞ্চে বসা শুরু করলাম। নইলে তার গৃহত্যাগী রূপের দিকে নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকব কী করে?
স্যাররা ক্লাসে আসে যায়। আমার নজর থাকে তার দিকে। মানুষ তাজমহলের দিকে যেমন মুগ্ধতা নিয়ে তাকায়, আমি তারচেয়ে হাজারগুণ বেশি মুগ্ধতা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। ক্লাস শেষে যখন স্যারের পিছু পিছু তারা গার্লস কমনরুমে ফিরে যায়, একমাত্র তখনই আমার মোহভঙ্গ হয়। বন্ধুরা আমার এই অন্যমনস্কতার কারণ জানতে চাইলে কবিতার ভাষায় জবাব দিই। এখান থেকেই আমার কাব্য প্রতিভার(!) বিকাশ।
বেশ কিছুদিন কেটে গেল। ইতোমধ্যে আমার প্রেমরোগ আরও বেড়েছে। আমার শরীরের অ্যাড্রিনাল, পিটুইটারি এবং আরও কিছু গ্রন্থি প্রায় সারাদিনই বানের জলের মতো আমার রক্তে প্রেমের হরমোন ঢালে। আকাশ পানে চেয়ে তার মুখচ্ছবি আঁকি দিবারাত্র। একদিন সে ক্লাসের শেষে কমনরুমে ফেরার পথে একটা কাগজে কিছু একটা লিখে আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে চলে গেল। আমি খুশিতে আত্মহারা!
এ যে মেঘ না চাইতেই মিনারেল ওয়াটার। আস্তে আস্তে কাগজের ভাঁজ খুলি। আমার বুকের গহিনের হৃদপিণ্ড, কালবোশেখী ঝড়ে খোলা জানালার কাঠের পাল্লা যেরকম আছাড়ি পিছাড়ি করে, সেরকম হুটোপুটি করছে। খুলে দেখি তাতে লেখা-শালা, আমার দিকে ওরকম তাকিয়ে থাকলে পেন্সিল দিয়ে চোখ গেলে দেবো! কসম!
আমার হৃদয় কাচের মতো ভেঙে পড়ল খানখান হয়ে। হৃদয়ের গহিনে কে যেন চিৎকার দিয়ে বলে উঠল বাংলা সিনেমার যুগান্তকারী ডায়ালগ, ‘নাআআআআআ, এ হতে পারে না।’
সুন্দরী মেয়েরা কিছুটা হৃদয়হীন হয় জানতাম। তাই বলে এতটা! আমার কল্পনাতেও ছিল না। আমার তার প্রতি প্রেমরোগ পুরোপুরি সেরে গেল।
কুমারখালী, কুষ্টিয়া।