
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৬ পিএম
সামরিক শাসকদের ‘অভেদ্য দুর্গ’ এখন ধ্বংসস্তূপ

যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩২ পিএম

আরও পড়ুন
ভূমিকম্পের আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতেও জিপের ওপর দাঁড়িয়ে স্যালুট নিচ্ছিলেন মিয়ানমারের সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং।
রাজধানী নেপিদোর আকাশে উড়ছিল যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার। তবে তার এই শক্তি প্রদর্শনীর পরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে সামরিক জান্তার ‘অভেদ্য দুর্গ’। শুক্রবার ওই জোড়া ভূমিকম্পে মিয়ানমারে প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ৮৮৬ জনে পৌঁছেছে।
বুধবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চার হাজার ৬৩৯ জন আহত এবং ৩৭৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে গোপনে তৈরি করা হয়েছিল এই শহরটি। পূর্ববর্তী সামরিক শাসকরা তৈরি করেছিলেন বিশাল সড়ক, অতিকায় সরকারি ভবন আর প্রাসাদসম স্থাপত্য।
কিন্তু ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়েছে হাসপাতাল, মন্ত্রণালয়ের ভবন, এমনকি রাষ্ট্রপতি ভবনের সোনালি সিঁড়িও। বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন। মন্ত্রীরা কাজ করছেন ধ্বংসস্তূপের পাশের লনে। নেপিদোর বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ধসে পড়েছে। শুধু অক্ষত আছে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার।
ভয়াবহ ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পরেও জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের ভেতর এখনো অনেকে জীবিত রয়েছেন। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলের ধ্বংসাবশেষ থেকে ২৬ বছর বয়সি একজনকে উদ্ধারও করেছেন তারা।
একই আশার আলো থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ধ্বংসাবশেষেও। ধসে পড়া ৩০ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতরে নিখোঁজ ৭০ জন এখনো জীবিত থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। একটি স্ক্যানারে তাদের বেঁচে থাকার আলামত ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারীরা। ব্যাংকক পোস্ট, গার্ডিয়ান।
ব্যাংককে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেদিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ৩০ তলা ভবনটি। আটকে পড়ে শতাধিক নির্মাণশ্রমিক। রোববার পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ৩২ জন আহত এবং ৮৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন যাদের বেশিরভাগই ধসে পড়া ভবনের নির্মাণ শ্রমিক।
তবে মঙ্গলবার সকালে রুয়ামকাতানিউ রেসকিউ ফাউন্ডেশন নামে একটি উদ্ধারকারী দল বলছে, ভবনের ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ফাউন্ডেশন বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরবরাহ করা স্ক্যানারে ৭০টি চিহ্ন শনাক্ত হয়েছে। এই চিহ্নগুলো নিখোঁজ ব্যক্তিরা হতে পারে। তারা আরও বলেছে, ধসে পড়া ভবনের ১৭তম ও ২১তম তলার মাঝামাঝি স্থানে চিহ্নগুলো শনাক্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় বেশিরভাগ নিখোঁজ ব্যক্তি সেখানে কাজ করছিলেন।
ত্রাণবাহী গাড়িতে জান্তার গুলি: ত্রাণবাহী গাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকায় সাহায্য নিয়ে আসা একটি কনভয়কে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ।
টায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) নামের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী বলেছে, সামরিক সৈন্যরা ত্রাণ সহায়তা নিয়ে মান্দালয়ে যাচ্ছিল। উত্তর শান রাজ্যের নাউং চো শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ভারী মেশিনগান ব্যবহার করে নয়টি গাড়ির কনভয় লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।
এদিকে মিয়ানমারের ভূমিকম্পে সেদিন নামাজরত অবস্থায় মারা গেছেন ৫ শতাধিক মুসলিম। শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে সাগাইনের তিনটি মসজিদ ধসে পড়ে। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় মসজিদ মায়োমাও ছিল। এর ভেতরে প্রায় সবাই মারা যায়। জান্তা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সেখানকার পাঁচটি মসজিদে থাকা পাঁচ শতাধিক মানুষ মারা গেছেন।