
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৪৩ পিএম
মিয়ানমারে ভূমিকম্প: মার্কিন অনুপস্থিতির সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩৪ পিএম

৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মিয়ানমারে ২৯০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে চীন। যা মিয়ানমারের প্রতি দেশটির ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে বদলে দিচ্ছে।
বুধবার এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চীনের তৎপরতা ও মার্কিন নিষ্ক্রিয়তা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ইতোমধ্যেই মিয়ানমারে ১৩.৭৬ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাঠিয়েছে এবং উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি চিকিৎসা দল ও জরুরি সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ২ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট কাটছাঁটের কারণেই এখানে মার্কিন উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন প্রতিক্রিয়া কেন দুর্বল?
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সরকারি ব্যয় কমানোর’ নীতির আওতায় USAID-এর কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে।
এমনটা না হলে মিয়ানমারে USAID-এর দক্ষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত মোতায়েন করতে পারত। তবে সংস্থাটির এখন আর সেই সক্ষমতা নেই।
এ বিষয়ে আমেরিকান কর্মকর্তা মার্সিয়া ওং বলেন, ‘আমরা এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছি, যেখানে অন্য শক্তিগুলো (যেমন- চীন) এগিয়ে আসতে পারছে’।
চীনের ‘মানবিক করিডোর’
অন্যদিকে চীন স্থল ও আকাশপথে— যেভাবে পারছে মিয়ানমারে সহায়তা পাঠাচ্ছে। যা প্রমাণ করে, তারা জান্তা ও বিদ্রোহী— উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
চীনের এই উদ্ধার ও সহায়তা প্রচেষ্টার কারণে সামাজিক মাধ্যমে দেশটির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব অনেকটাই কমে এসেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব
এদিকে মিয়ানমারে চলমান ভূমিকম্প পরিস্থিতিতে চীন ও ভারতের কৌশলগত প্রতিযোগিতা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অপেক্ষাকৃত নিষ্ক্রিয়তার ফলে মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমছে। যা চীনের জন্য কূটনৈতিক সুবিধা তৈরি করছে।
এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সাবেক কূটনীতিক স্কট মার্সিয়েল বলেন, ‘মিয়ানমারের মতো অঞ্চলে প্রভাব ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল’।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেটি না পারায়, মিয়ানমারের ভূমিকম্পে চীনের দ্রুত ও ব্যাপক সহায়তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। বিপরীতে মার্কিন নিষ্ক্রিয়তা এশিয়ার দেশটিতে তাদের কূটনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দিচ্ছে।